অনেক দিন থেকেই এই বিষয়টির উপর একটি লেখা লিখব লিখব করছি কিন্তু হয়ে উঠছিল না। লেখার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যারা গবেষণার সাথে যুক্ত আছেন তাদের জন্য। তবে বাংলাদেশের গবেষকদের জন্য বিষয়গুলো একটু বেশীই গুরুত্বপূর্ণ কারণ আমি লক্ষ করেছি বেশীরভাগ গবেষকের এই বিষয়গুলো সম্পর্কে কোন ধারনা নেই বা ধারণা অস্পষ্ট। অনেক ক্ষেত্রেই অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্য কোথাও নিজের গবেষণা প্রবন্ধ (জার্নাল আর্টিক্যাল / পেপার) সম্পর্কে ভুল তথ্য (বিশেষ করে ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর সম্পর্কিত) উপস্থাপন করেন যা অন্যদের ভুল পথে পরিচালিত বা বিভ্রান্ত করে। আমি খুবই সংক্ষেপে কিছু বেসিক বিষয়গুলি তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
ওয়ার্ক শ্যাডোয়িং
ডায়েরী লেখা আমার ছেলেবেলার অভ্যাস! স্কুলে থাকাকালীন সময় থেকেই লিখি, যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর প্রথম কিছুদিন লিখলেও পরে বাদ দিয়ে দিয়েছিলাম কিছু কারনে। ইংল্যাণ্ডে আসার পর থেকে ‘বিলেতের ডায়েরী’ নামে আবার লেখা শুরু করেছি! উদ্দেশ্য বেঁচে থাকলে শেষ জীবনে গিয়ে জীবনের ফেলে আসাদিনগুলো একটু স্মরণ করব! বর্তমানে আমার ডায়েরী লেখার ধরন একটু আলাদা, আমি কাগজে কলমে লিখি না, লিখি কম্পিউটারে! যদিও আমার ব্যক্তিগত, তবুও আজকের ডায়েরীর পাতাটি পোষ্ট করলাম এখানে! অনেকে আমার লেখায় মনক্ষুন্ন হতে পারেন কিন্তু এটাই বাস্তবতা...
৫ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার; ডারহাম, যুক্তরাজ্য
আজ ঘুম থেকে উঠতে একটু বেশীই দেরী হয়ে গিয়েছিল। ল্যাবে যাব কি যাব না ঠিক মনস্থির করতে পারছিলাম না তারপর হঠাৎ মনে হল যে এখন যে এনালাইসিস করছি তার জন্য কম্পিউটারের দুটি মনিটর হলে কাজে খুব সুবিধে হবে, সুতরাং সকালের ও দুপুরের খাবার তৈরি করে ক্যাম্পাসে চলে আসলাম। আজ দেখছি আমাদের গ্রুপের কেউই আসেনি ল্যাবে। খুবই স্বাভাবিক, আমিই বোধহয় সবচেয়ে বেশী অনুপস্থিত থাকি ল্যাবে!
ঘটনাচক্র
ঘটনাচক্র ১
সাহেব বাজারে গিয়েছি কবুতরের খাবার কিনতে। দোকানে অন্য কোন ক্রেতা নেই। আমি ৫ কেজি ধান এবং ৫ কেজি চিনা দিতে বললাম। দোকানদার প্রথমে ৫ কেজি চিনা মাপছিল এসময় একটি তরুণীর আগমন। তিনি দোকানদারের কাছে জানতে চাইলেন ‘মামা চিনা আছে?’
দোকানদারের তড়িৎ উত্তর কতটুকু নিবেন?
তরুণী: হাফ কেজি।
অতঃপর দোকানদার আমার অর্ডার অসমাপ্ত রেখেই তার জন্য ৫০০ গ্রাম চিনা মাপতে মাপতে তরুণীকে প্রশ্ন করলেন ‘আপনার কয়টা পাখি আছে?’ উত্তর এলো ‘দুইটা’। দোকানদারের পুনরায় প্রশ্ন ‘আপনি কি মেসে থাকেন?’ তরুণীর উত্তর ‘না’। এভাবে চলতে থাকলো আরও কিছুক্ষণ। দোকানদার চিনা মাপা শেষ করে আমার দিকে না তাকিয়েই তরুণীকে বলল ‘আপনার আরও কিছু লাগবে?’ তরুণী জানালো তার ২৫০ গ্রাম কাউন লাগবে। এরপর দোকানদার ব্যস্ত হয়ে পড়লো তরুণীকে কাউন দেবার জন্য। কিছুক্ষণ পর তরুণী তার পণ্যের টাকা পরিশোধ করে প্রস্থান করলো।
এবার দোকানদার আমার দিকে তাকানোর ফুসরত পেলেন এবং জানতে চাইলেই ‘আপনার যেন আর কি কি লাগবে?’
...হতাশ!
ঘটনাচক্র ২
বাজারে একটি রেস্টুরেন্টে গিয়েছি খাবার খেতে বউ এবং শ্যালিকাসহ। খাবার শেষে আমরা বের হয়ে আসব, দোকানের কাঁচের দরজাটি আমার শ্যালিকা টেনে ধরে সে বের হবে এমন সময় অপর দিক থেকে একটি তরুণ ছেলে দরজা দিয়ে প্রবেশ করল যেন উনার জন্যই আমার শ্যালিকা দরজা খুলে দিচ্ছিল!
...ভাই সমস্যা কোথায়?
চোখ থাকিতে অন্ধ

কাক নিয়ে নানা ধরনের গল্প প্রচলিত আছে সেটি আমরা মোটামুটি সবাই জানি। তার মধ্যে একটি গল্পের বিষয়বস্তু অনেকটা এরকম যে একজন মহিলা (১ম মহিলা) একটি সন্তান প্রসব করলো যার গাত্রবর্ণ উজ্জ্বল নয়। অপর একজন (২য় মহিলা) ঐ মহিলার সন্তান সম্পর্কে আরেকজন মহিলাকে (৩য় মহিলা) বর্ণনা দিলো যে ১ম মহিলার তো খুবই কালো একটি সন্তান হয়েছে। পরবর্তীতে ৩য় মহিলা ৪র্থ একজন মহিলাকে জানালো যে ১ম মহিলার একটি কাকের মতো কালো সন্তান হয়েছে। ৪র্থ মহিলা এরপর সবাইকে জানালো যে ১ম মহিলা একটি কাকের জন্ম দিয়েছে!
গল্পের মূল ভাষ্য আমরা সবাই বুঝে গেছি। শোনা কথা একজন থেকে আরেকজনের কাছে পৌঁছানোর সময় ধীরে ধীরে বিকৃত হতে থাকে। কিন্তু বর্তমানে আমাদের সমাজে যেটি শুরু হয়েছে সেটি এই গল্পকেও হার মানাবে বলে মনে হচ্ছে। আমরা অপরের কাছে থেকে শুনে নয়, নিজের চোখে দেখা অভিজ্ঞতাগুলোকে যেভাবে উপস্থাপন করছি তাতে উপরোক্ত মহিলার কাক জন্ম দেবার গল্পকেও লজ্জা পাইয়ে দেবে। একটি উদাহরণ দেয়া যাক-
Subscribe to:
Posts (Atom)
