Showing posts with label বাঁশ. Show all posts
Showing posts with label বাঁশ. Show all posts

স্টুডেন্ট ফ্রেন্ডলি টিচার

শিক্ষক হবার সুবাদে আমি বরাবরই আমার ছাত্রছাত্রীদের বই পড়তে উপদেশ এবং পরামর্শ দিয়ে থাকি যার কারণে আমার অনেক ছাত্রছাত্রী হয়তো আমাকে তেমন ‘স্টুডেন্ট ফ্রেন্ডলি’ শিক্ষক হিসেবে পছন্দ করে না। ‘স্টুডেন্ট ফ্রেন্ডলি’ শব্দটি আমার নিজের বিভাগে (ফিশারীজ বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়) উৎপত্তি লাভ করলেও সঠিকভাবে মনে করতে পারছি না এই শব্দটির প্রবর্তক কে, তবে খুব সম্ভবত আমার বন্ধু ও সহপাঠী অংকুর। আমরা কিছু বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে শিক্ষকদের এই দলের অন্তর্ভুক্ত করতাম যার মধ্যে একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল ‘ছাত্রছাত্রীদের নোট সরবরাহ করা’। অর্থাৎ শিক্ষক ক্লাসে তার কোর্সের নোট সরবরাহ করতেন। এটি হতে পারে খুবই ভালো একটি পদ্ধতি যেখানে বইপত্রসহ অন্য সকল সুবিধাদির অভাব রয়েছে! তবে মুদ্রার যেমন অপর পিঠ থাকে তেমনি এই পদ্ধতিরও উল্টোদিক আছে। এই ধরনের শিক্ষকদের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল তারা গণহারে সবাইকে মাত্রাতিরিক্ত নম্বর দেন (জিপিএ ফাইভ টাইপ), যাতে করে তারা ছাত্রছাত্রীদের কাছে নিজের খুবই ভাল ইমেজ ধরে রাখতে পারেন। অবশ্য অনেক শিক্ষকও সারাবছর ক্লাস না নিয়ে কিন্তু পরীক্ষায় ঢেলে নম্বর দিয়ে এই ইমেজ ধরে রাখেন এবং নিজের ফাঁকিবাজি হালাল করেন। এতে করে কি প্রকৃত মেধাবীদের অবমূল্যায়ন করা হয় না? যাই হোক, এগুলো তিতা কথা... ভাল লাগবে না।

ওয়ার্ক শ্যাডোয়িং

ডায়েরী লেখা আমার ছেলেবেলার অভ্যাস! স্কুলে থাকাকালীন সময় থেকেই লিখি, যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর প্রথম কিছুদিন লিখলেও পরে বাদ দিয়ে দিয়েছিলাম কিছু কারনে। ইংল্যাণ্ডে আসার পর থেকে ‘বিলেতের ডায়েরী’ নামে আবার লেখা শুরু করেছি! উদ্দেশ্য বেঁচে থাকলে শেষ জীবনে গিয়ে জীবনের ফেলে আসাদিনগুলো একটু স্মরণ করব! বর্তমানে আমার ডায়েরী লেখার ধরন একটু আলাদা, আমি কাগজে কলমে লিখি না, লিখি কম্পিউটারে! যদিও আমার ব্যক্তিগত, তবুও আজকের ডায়েরীর পাতাটি পোষ্ট করলাম এখানে! অনেকে আমার লেখায় মনক্ষুন্ন হতে পারেন কিন্তু এটাই বাস্তবতা...

৫ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার; ডারহাম, যুক্তরাজ্য

আজ ঘুম থেকে উঠতে একটু বেশীই দেরী হয়ে গিয়েছিল। ল্যাবে যাব কি যাব না ঠিক মনস্থির করতে পারছিলাম না তারপর হঠাৎ মনে হল যে এখন যে এনালাইসিস করছি তার জন্য কম্পিউটারের দুটি মনিটর হলে কাজে খুব সুবিধে হবে, সুতরাং সকালের ও দুপুরের খাবার তৈরি করে ক্যাম্পাসে চলে আসলাম। আজ দেখছি আমাদের গ্রুপের কেউই আসেনি ল্যাবে। খুবই স্বাভাবিক, আমিই বোধহয় সবচেয়ে বেশী অনুপস্থিত থাকি ল্যাবে!

ঘটনাচক্র


ঘটনাচক্র ১

সাহেব বাজারে গিয়েছি কবুতরের খাবার কিনতে। দোকানে অন্য কোন ক্রেতা নেই। আমি ৫ কেজি ধান এবং ৫ কেজি চিনা দিতে বললাম। দোকানদার প্রথমে ৫ কেজি চিনা মাপছিল এসময় একটি তরুণীর আগমন। তিনি দোকানদারের কাছে জানতে চাইলেন ‘মামা চিনা আছে?’
দোকানদারের তড়িৎ উত্তর কতটুকু নিবেন?
তরুণী: হাফ কেজি।
অতঃপর দোকানদার আমার অর্ডার অসমাপ্ত রেখেই তার জন্য ৫০০ গ্রাম চিনা মাপতে মাপতে তরুণীকে প্রশ্ন করলেন ‘আপনার কয়টা পাখি আছে?’ উত্তর এলো ‘দুইটা’। দোকানদারের পুনরায় প্রশ্ন ‘আপনি কি মেসে থাকেন?’ তরুণীর উত্তর ‘না’। এভাবে চলতে থাকলো আরও কিছুক্ষণ। দোকানদার চিনা মাপা শেষ করে আমার দিকে না তাকিয়েই তরুণীকে বলল ‘আপনার আরও কিছু লাগবে?’ তরুণী জানালো তার ২৫০ গ্রাম কাউন লাগবে। এরপর দোকানদার ব্যস্ত হয়ে পড়লো তরুণীকে কাউন দেবার জন্য। কিছুক্ষণ পর তরুণী তার পণ্যের টাকা পরিশোধ করে প্রস্থান করলো।
এবার দোকানদার আমার দিকে তাকানোর ফুসরত পেলেন এবং জানতে চাইলেই ‘আপনার যেন আর কি কি লাগবে?’

...হতাশ!


ঘটনাচক্র ২
বাজারে একটি রেস্টুরেন্টে গিয়েছি খাবার খেতে বউ এবং শ্যালিকাসহ। খাবার শেষে আমরা বের হয়ে আসব, দোকানের কাঁচের দরজাটি আমার শ্যালিকা টেনে ধরে সে বের হবে এমন সময় অপর দিক থেকে একটি তরুণ ছেলে দরজা দিয়ে প্রবেশ করল যেন উনার জন্যই আমার শ্যালিকা দরজা খুলে দিচ্ছিল!

...ভাই সমস্যা কোথায়?

চোখ থাকিতে অন্ধ


কাক নিয়ে নানা ধরনের গল্প প্রচলিত আছে সেটি আমরা মোটামুটি সবাই জানি। তার মধ্যে একটি গল্পের বিষয়বস্তু অনেকটা এরকম যে একজন মহিলা (১ম মহিলা) একটি সন্তান প্রসব করলো যার গাত্রবর্ণ উজ্জ্বল নয়। অপর একজন (২য় মহিলা) ঐ মহিলার সন্তান সম্পর্কে আরেকজন মহিলাকে (৩য় মহিলা) বর্ণনা দিলো যে ১ম মহিলার তো খুবই কালো একটি সন্তান হয়েছে। পরবর্তীতে ৩য় মহিলা ৪র্থ একজন মহিলাকে জানালো যে ১ম মহিলার একটি কাকের মতো কালো সন্তান হয়েছে। ৪র্থ মহিলা এরপর সবাইকে জানালো যে ১ম মহিলা একটি কাকের জন্ম দিয়েছে!

গল্পের মূল ভাষ্য আমরা সবাই বুঝে গেছি। শোনা কথা একজন থেকে আরেকজনের কাছে পৌঁছানোর সময় ধীরে ধীরে বিকৃত হতে থাকে। কিন্তু বর্তমানে আমাদের সমাজে যেটি শুরু হয়েছে সেটি এই গল্পকেও হার মানাবে বলে মনে হচ্ছে। আমরা অপরের কাছে থেকে শুনে নয়, নিজের চোখে দেখা অভিজ্ঞতাগুলোকে যেভাবে উপস্থাপন করছি তাতে উপরোক্ত মহিলার কাক জন্ম দেবার গল্পকেও লজ্জা পাইয়ে দেবে। একটি উদাহরণ দেয়া যাক-

বিলেতের দিনকাল: জাতীয় নির্বাচন

প্রথমেই যে মন্তব্যটি মাথায় এল সেটি হল ‘এটি একটি নির্বাচন হল’! প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে-এর সৌজন্যে যুক্তরাজ্যের জাতীয় নির্বাচন দেখার সুযোগ হল এখানে আসার অল্প দিনের মাথায়- যার প্রেক্ষিতে এই মন্তব্য!
কোন রকম মিটিং মিছিল নেই, নেই কোন মাইকিং বা আকাশ-বাতাস জুড়ে পোস্টারিং! বিশ্ববিদ্যালয় হতে বাড়িতে ফিরে দেখলাম দুটি পোষ্ট কার্ড টাইপের কাগজে দুটি প্রধান দলের প্রার্থীদের ভোট দেবার জন্য আহবান জানান হয়েছে! দেশের সরকার গঠনের নির্বাচন, চারপাশে কোন আলোচনা-সমালোচনা কিছুই নেই! কাউকেও দেখলাম না যে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করছে! মনেই হচ্ছিল না যে আর দু’দিন পর এখানে জাতীয় নির্বাচন! আমাদের দেশের ভোটের সাথে পার্থক্য খুবই সুস্পষ্ট! বার বার কেন যেন মনে হচ্ছে এটি কোন নির্বাচন! কোথাও কোথাও তো ভোটকেন্দ্র হল বাড়ির গ্যারাজ এবং কোন রকম পুলিশ বা সেনাবাহিনী পাহারা ছাড়াই!

মিস করলাম চায়ের দোকানে/অফিস আদালতে সরগরম আলোচনা বা তর্ক-বিতর্ক, কর্মজীবী (সাথে অকর্মজীবী!) মানুষগুলোর দিনরাত নিজ নিজ দলের প্রার্থীদের পক্ষে ভোটের জন্য প্রচারণা, বিরতীহীন কান ঝালাপালা করে জীবন অতিষ্ট করা মাইকিং, নির্বাচন কেন্দ্রে মারামারি, খুনোখুনি, নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতা আরও কত কি...

তারপর আবার নির্বাচনে হারার পরও হারু পার্টি বলছে না যে নির্বাচনে স্থুল বা সুক্ষ্ম কারচুপি হয়েছে! হারার পরও বিরোধী দল হিসেবে পার্লামেন্টে নিয়মিত অধিবেসনে বসছে!

ছ্যাঁ ছ্যাঁ ছ্যাঁ... এটি কোন নির্বাচন!
কবে যে এরা আমাদের কাছে থেকে শিখবে...

বিদেশে উচ্চশিক্ষা: পর্ব ১

বিগত কিছুদিনে বিভিন্ন ব্লগ এবং ফেসবুকে বিদেশে স্কলারশীপ বিষয়ক পরামর্শ, তর্ক-বিতর্ক ইত্যাদি ইত্যাদি দেখে এই ব্লগটি লেখার সিদ্ধান্ত নিলাম। কারন এসব ফেসবুক পোষ্ট বা ব্লগ পড়ে অনেকেই, বিশেষ করে যারা এই লাইনে নতুন, বিভ্রান্ত হতে পারেন- এই লেখাগুলো খুবই অসম্পূর্ণ এবং পক্ষপাতিত্ত্বমূলক। আশা করি এখান থেকে পাঠকরা বিদেশে উচ্চশিক্ষা বিষয়ে একটি স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ ধারনা লাভ করবে। এই লেখাটি মূলতঃ চলমান এবং প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে লেখা এবং উচ্চশিক্ষা বলতে এখানে মাস্টার্স এবং পিএইচডি বোঝান হয়েছে... আর একটি বিশেষ দ্রষ্টব্য এই যে এই লেখার প্রতিটি সেকশনেই তুলে ধরা বক্তব্যের কিছু ব্যতিক্রম থাকতে পারে যা লেখাটির সরলীকরন এবং সংক্ষিপ্তকরনের সুবিধার্থে এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হতে বিরত থাকা হয়েছে। সংক্ষিপ্তকরনের পরও এই লেখাটিকে দুটি ভাগে ভাগ করতে বাধ্য হলাম। এটি প্রথম পর্ব যাতে থাকছে বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কিছু বেসিক ধারণা। শেষপর্বে থাকবে আবেদন প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট তথ্যসমূহ।

আসুন নতুন এক ব্যক্তিকে আবিস্কার করি...

ফিশারীজ পড়াশুনার কারনে এ বিষয়টিকে ঘিরে আমার আগ্রহ বেশ। একারনেই আমরা বাংলাদেশে প্রথম ফিশারীজ বিষয়ক ওয়েবসাইট বিডিফিশ (বাংলাদেশ ফিশারীজ ইনফরমেশন শেয়ার হোম) প্রতিষ্ঠা করি (http://www.bdfish.org)সাইটির প্রতি আমাদের ভালবাসা অনেক। বেশ কিছু ব্যক্তিবর্গ আমাদের সাইটে তাদের ফিশারীজ বিষয়ক লেখা ও ছবি প্রকাশ করেছেন এবং এখনও করছেন। সাইটি আজ বেশ জনপ্রিয়। আমরা নিরালস ভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি এর উন্নয়নে। চেষ্টা করে যাচ্ছি নতুন নতুন তথ্য সাইটিতে যোগ করে একে আরো সমৃদ্ধ করতে। এই যাত্রাপথে আমাদের ভালো-খারাপ উভয় ধরনের অভিজ্ঞতাই হয়েছে।