Showing posts with label অনলাইন ডায়েরী. Show all posts
Showing posts with label অনলাইন ডায়েরী. Show all posts

টাইমস হায়ার এডুকেশন ইমপ্যাক্ট র‌্যাংকিং-এ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

আজ “টাইমস হায়ার এডুকেশন” এর “ইমপ্যাক্ট র‌্যাংকিং” প্রকাশিত হয়েছে, প্রথমবারের মত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এতে স্থান করে নিয়েছে, বাংলাদেশের মধ্যে অবস্থান যৌথভাবে ৯ম, বিশ্বে ১০০১-১৫০০ এর মধ্যে। এবার এই র‌্যাংকিং-এ ১২৫ দেশ হতে ২১৫২টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে, সেই হিসেবে আমরা মাঝামাঝি একটি অবস্থানে আছি। উল্লেখ্য যে, “ইমপ্যাক্ট র‌্যাংকিং” এর ভিত্তি হল UN-এর Sustainable Development Goals (SDGs). একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৭টি SDG-এর বিপরীতে কেমন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে এবং সেগুলির ফলাফল বিবেচনায় নিয়ে এই র‌্যাংকিংটি করা হয়ে থাকে। সুতরাং এই র‌্যাংকিংয়ে ভাল অবস্থান মানেই যে পড়াশুনা বা গবেষণা খুব ভাল বিষয়টি সেরকম নয়, বরং টেকসই, পরিবেশ বান্ধব কার্যক্রমে আমরা কি অবস্থায় আছি সেই বিষয়টি এই র‌্যাংকিং হতে বোঝা যায়। গত বছরের (২০২৩) নভেম্বরের শুরুতে যখন ইমপ্যাক্ট র‌্যাংকিং এর জন্য ডাটা সাবমিট করেছিলাম তখন বুঝতে পেরেছিলাম যে আমরা কোথায় আছি আর দুনিয়া কত এগিয়ে গেছে... রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মত বড় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সম্ভবত প্রধান সমস্যা কোন গোছানো তথ্যভাণ্ডার! বিচ্ছিন্ন তথ্যগুলিকে একসাথে করে উপস্থাপন করাই বড় চ্যালেঞ্জ...। আমাদের দেশের নতুন সরকারী বা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় গুলির এখানে বেশ এগিয়ে থাকার কথা। র‌্যাংকিংয়ের কাজ করার পর উপলব্ধি হয়েছে, কত সিম্পল কিছু কাজ বা সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এইসব র‌্যাংকিংয়ে একটি তুলনামূলক ভাল অবস্থান করে নেয়া সম্ভব। তবে চ্যালেঞ্জও অনেক... যাইহোক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্যের নেতৃত্ব ও উৎসাহে কাজগুলি গতবছরের শেষ পর্যন্ত অফিসের মাত্র দুজন অফিসার নিয়ে এই বিপুল কর্মযজ্ঞ একাই করে যাচ্ছিলাম, বিষয়টি অনুধাবন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একজন অত্যন্ত সুযোগ্য পরিচালক নিয়োগ দিয়েছেন, যাতে করে আমাদের অফিসের কর্মপরিধিও বেড়েছে। আশা করছি আমাদের এই কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতে আরও ত্বরান্বিত হবে, সকলের সার্বিক সহযোগিতায় আমরা আরও এগিয়ে যাব... পরিশেষে একটি বিষয় উল্লেখ না করলেই নয়, যদিও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক অবস্থান ১০০১-১৫০০ এর মধ্যে কিন্তু SDG-17 Life below water ক্যাটেগরিতে (আমার বিভাগ যে ক্যাটেগরিতে পড়ে আর কি...) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ৪০১-৬০০ এর মধ্যে...

কফি!


বিশ্ববিদ্যালয় (ছাত্র) জীবনে সম্ভবত আমার সবচেয়ে আপনজন ছিল এই কফি! শনি-বৃহস্পতি প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলতো বিভাগের ক্লাস, কখনও কখনও আরও দেরী। বাসায় ফিরে একটু পর আবার বন্ধুদের সাথে আড্ডা, রাতের খাবার শেষে বোধহয় রাত ১২টার আগে কখনও বইপত্র নিয়ে বসতে পারি নি। এই রাতেই আমার নিরবিচ্ছিন্ন সঙ্গী হতো কফি! সে অর্থে বলতে গেলে আমার একাডেমিক বা রিসার্চ ক্যারিয়ারের যাবতীয় সাফল্যের পিছনে এই কফি!

রাত জাগার অভ্যেস ছাড়তে পারিনি; চেষ্টা যে করিনি তা নয়, বহুবার ঘটা করে ফজরের সময় ঘুম থেকে উঠে দিন শুরু করার ব্যর্থ চেষ্টা করেছি- শুরুতে দুএকদিন কাজ হলেও কদিন পরেই ‘যে লাউ সেই কদু’ দশা। আমার জন্য ফজরের পরে বিছানায় যাওয়াটিই বেশি স্যুট করে! কর্মজীবনের প্রায় ১২ বছরেও যাবতীয় কাজই করেছি এই রাতেই, সাথে ছিল বিভিন্ন ব্রাণ্ডের কফি! কফি জিনিসটা আমার জীবনে একরকম শিল্পের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে! বিদেশ থেকে সবাই ব্যাগ ভর্তি করে কত কি নিয়ে আসে, আমিও আনতাম... তবে জারের পর জার ভর্তি Douwe Egberts! 

বিয়ের পর বউকে আর কিছু শিখাতে পেরেছি কি না জানি না কিন্তু এই কফি যে আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে গেছে সেটি মোটামুটি নিশ্চিত! স্বাভাবিক সময়ের বাইরে প্রতিরাতে ২-৩টার মধ্যে কফি খাওয়া আমাদের বোধহয় অদ্ভুত স্বভাবগুলির একটি! রাজশাহীর বাইরে কোথাও গেলেও সর্বপ্রথম আমি যে জিনিসটি খুঁজি, সেটি সম্ভবত কোথায় কফি পাওয়া যাবে! 


আজ হঠাৎ মাঝরাতে এসে মনে হলো এই কফিকে একটু ক্রেডিট দেয়া দরকার...


 

বি.দ্র. বউ এক মাসের জন্য ট্রেনিংয়ে রাজশাহীর বাইরে...



উন্নত বিশ্বে উচ্চশিক্ষা ও জীবনযাপন সহজ করার কিছু টিপস

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য স্কলারশিপ কিভাবে পাওয়া যাবে এ নিয়ে প্রচুর লেখালেখি থাকলেও এখানে যে বিষয়টি নিয়ে আজ লিখছি সেটি হয়ত কিছুটা অতিরিক্ত, কিন্তু অত্যাবশ্যকীয় বিষয়াবলী এবং এগুলো কারো আয়ত্তে থাকলে ভিনদেশে তার উচ্চশিক্ষা এবং জীবনযাপন অনেকটাই ডালভাত হয়ে যাবে এবং রীতিমত উপভোগ করতে পারবে। এটি অবশ্যই সঠিক যে উন্নত বিশ্বে উচ্চশিক্ষা (মাস্টার্স এবং পিএইচডি, তবে বিশেষ করে পিএইচডি) সম্পন্ন করা দেশের থেকে অনেক চ্যালেঞ্জিং এবং ‘সম্ভবত’ খুব কঠিন। আমি ‘সম্ভবত’ শব্দটি ব্যবহার করেছি কারণ এই কঠিনতার বিষয়টি নির্ভর করবে আপনার নিজস্ব গুণাবলী এবং দক্ষতার উপর। আমি বাংলাদেশে প্রায় সকলের মুখেই শুনেছি যে (যারা দেশের বাইরে ডিগ্রী নিয়েছেন) যে বাইরে ডিগ্রী করা খুব কঠিন। আমার নিজস্ব কিছু পর্যবেক্ষণ আছে এবং আমার মনে হয় এসকল বিষয় আয়ত্তে থাকলে কারো জন্যই বাইরে ডিগ্রী করাটা তেমন কঠিন কিছু না, অন্তত আমার নিজস্ব অভিজ্ঞতায় তা মনে হয় নি।

ওয়ার্ক শ্যাডোয়িং

ডায়েরী লেখা আমার ছেলেবেলার অভ্যাস! স্কুলে থাকাকালীন সময় থেকেই লিখি, যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর প্রথম কিছুদিন লিখলেও পরে বাদ দিয়ে দিয়েছিলাম কিছু কারনে। ইংল্যাণ্ডে আসার পর থেকে ‘বিলেতের ডায়েরী’ নামে আবার লেখা শুরু করেছি! উদ্দেশ্য বেঁচে থাকলে শেষ জীবনে গিয়ে জীবনের ফেলে আসাদিনগুলো একটু স্মরণ করব! বর্তমানে আমার ডায়েরী লেখার ধরন একটু আলাদা, আমি কাগজে কলমে লিখি না, লিখি কম্পিউটারে! যদিও আমার ব্যক্তিগত, তবুও আজকের ডায়েরীর পাতাটি পোষ্ট করলাম এখানে! অনেকে আমার লেখায় মনক্ষুন্ন হতে পারেন কিন্তু এটাই বাস্তবতা...

৫ জুলাই ২০১৯, শুক্রবার; ডারহাম, যুক্তরাজ্য

আজ ঘুম থেকে উঠতে একটু বেশীই দেরী হয়ে গিয়েছিল। ল্যাবে যাব কি যাব না ঠিক মনস্থির করতে পারছিলাম না তারপর হঠাৎ মনে হল যে এখন যে এনালাইসিস করছি তার জন্য কম্পিউটারের দুটি মনিটর হলে কাজে খুব সুবিধে হবে, সুতরাং সকালের ও দুপুরের খাবার তৈরি করে ক্যাম্পাসে চলে আসলাম। আজ দেখছি আমাদের গ্রুপের কেউই আসেনি ল্যাবে। খুবই স্বাভাবিক, আমিই বোধহয় সবচেয়ে বেশী অনুপস্থিত থাকি ল্যাবে!

ঘটনাচক্র


ঘটনাচক্র ১

সাহেব বাজারে গিয়েছি কবুতরের খাবার কিনতে। দোকানে অন্য কোন ক্রেতা নেই। আমি ৫ কেজি ধান এবং ৫ কেজি চিনা দিতে বললাম। দোকানদার প্রথমে ৫ কেজি চিনা মাপছিল এসময় একটি তরুণীর আগমন। তিনি দোকানদারের কাছে জানতে চাইলেন ‘মামা চিনা আছে?’
দোকানদারের তড়িৎ উত্তর কতটুকু নিবেন?
তরুণী: হাফ কেজি।
অতঃপর দোকানদার আমার অর্ডার অসমাপ্ত রেখেই তার জন্য ৫০০ গ্রাম চিনা মাপতে মাপতে তরুণীকে প্রশ্ন করলেন ‘আপনার কয়টা পাখি আছে?’ উত্তর এলো ‘দুইটা’। দোকানদারের পুনরায় প্রশ্ন ‘আপনি কি মেসে থাকেন?’ তরুণীর উত্তর ‘না’। এভাবে চলতে থাকলো আরও কিছুক্ষণ। দোকানদার চিনা মাপা শেষ করে আমার দিকে না তাকিয়েই তরুণীকে বলল ‘আপনার আরও কিছু লাগবে?’ তরুণী জানালো তার ২৫০ গ্রাম কাউন লাগবে। এরপর দোকানদার ব্যস্ত হয়ে পড়লো তরুণীকে কাউন দেবার জন্য। কিছুক্ষণ পর তরুণী তার পণ্যের টাকা পরিশোধ করে প্রস্থান করলো।
এবার দোকানদার আমার দিকে তাকানোর ফুসরত পেলেন এবং জানতে চাইলেই ‘আপনার যেন আর কি কি লাগবে?’

...হতাশ!


ঘটনাচক্র ২
বাজারে একটি রেস্টুরেন্টে গিয়েছি খাবার খেতে বউ এবং শ্যালিকাসহ। খাবার শেষে আমরা বের হয়ে আসব, দোকানের কাঁচের দরজাটি আমার শ্যালিকা টেনে ধরে সে বের হবে এমন সময় অপর দিক থেকে একটি তরুণ ছেলে দরজা দিয়ে প্রবেশ করল যেন উনার জন্যই আমার শ্যালিকা দরজা খুলে দিচ্ছিল!

...ভাই সমস্যা কোথায়?

বই হোক নিত্য সঙ্গী

লন্ডন শহরের একটি বইয়ের দোকান
ছোটবেলায় বন্ধু সার্কেলে আমরা সবাই বই-এর পোকা বলতে যা বোঝায় সেটিই ছিলাম। তবে এই টানটি ছিল মূলতঃ গল্পের বই এর প্রতি, পাঠ্যবইয়ের প্রতি নয়! আমাদের বন্ধুমহলের একজন তো স্কুললাইফে নিজের বাড়িতে একটি লাইব্রেরী দিয়ে তার একটি নামও দিয়ে দিয়েছিল। এছাড়া আমাদের সকলের বাড়িতেই নিজ নিজ ঘরটি ছিল এসকল বই-এ পরিপূর্ণ। শুরুটা হয়েছিল ডায়মণ্ড কমিকস-এর চাচা চৌধুরী, বিল্লু, পিঙ্কী ও অন্যান্য কমিক বুক দিয়ে। রাজশাহী শহরের মলোপাড়া এলাকার একটি দোকান তখন কমিকস এবং গল্পের বই এর জন্য রীতিমত বিখ্যাত ছিল- ‘বুকস ফেয়ার’,  সেখানে আমাদের ভীড় সর্বদাই লেগে থাকত। স্কুলের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে, বাবা-মা সবাইকে চাপ দিয়ে কিভাবেই না একটি বই কেনার জন্য লেগে থাকতাম।

বিদেশে উচ্চশিক্ষা: পর্ব ২

আগের পর্বে দেশের বাইরে স্কলারশীপের কিছু বেসিক তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলাম। এই পর্বে মূলতঃ স্কলারশীপের টেকনিক্যাল বিষয়গুলো লিপিবদ্ধ করার চেষ্টা করছি। যদিও অনেক আগেই এই লেখাটি পোষ্ট করা উচিত ছিল কিন্তু ব্যস্ততার কারনে এই বিলম্ব...

প্রফেসর ম্যানেজ ও গবেষণার বিষয়... খুবই গুরুত্বপূর্ণ
দেশের বাইরে স্কলারশীপের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হল একজন সম্ভবনাময় গবেষণা সুপারভাইজার খুঁজে বের করা এবং তাকে ই-মেইলের মাধ্যমে আপনি যে তার তত্ত্বাবধানে কাজ করতে আগ্রহী সেটি জানানো। এক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে আপনার ইমেইল পেলেই যে তিনি রিপ্লাই দিবে এমনটি নয়। প্রফেসর (সামগ্রিক অর্থে ব্যাবহৃত, যেকোন শিক্ষক/সুপারভাইজার) ম্যানেজ করা খুবই ধৈর্যের বিষয় এটি আপনাকে মাথায় রাখতে হবে। তবে সঠিক উপায়ে এবং সেই সাথে একটু ভাগ্যের সহায়তা থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই প্রফেসর ম্যানেজ করা সম্ভব। এক্ষেত্রে একটি খুবই উপযোগী এবং সহজ পদ্ধতি হল যেসব ব্যাক্তি ইতোপূর্বে দেশের বাইরে ডিগ্রী করেছেন বা বর্তমানে করছেন তাদের সাথে যোগাযোগ করে দেখতে পারেন যদি তারা আপনার হয়ে তাদের সুপারভাইজার বা অন্য কোন সুপারভাইজারকে ম্যানেজ করতে পারেন কিনা! তবে এক্ষেত্রে দেখা যায় গবেষণার বিষয় ঐ প্রফেসরের পছন্দ-অপছন্দ অনুযায়ী হয় যা অনেকের পছন্দ নাও হতে পারে, পর্যাপ্ত পূর্ব অভিজ্ঞতা বা জ্ঞান নাও থাকতে পারে এবং সর্বপরি কোন দেশ পছন্দ নাও হতে পারে। কিন্তু এত সহজে কিছু পেলে তার বিনিময়ে কিছু ছাড় দেয়া যেতেই পারে!

বিলেতের দিনকাল: ব্রিটিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স

গবেষণার কাজে প্রায় প্রতিদিনই ডারহামের আশেপাশের শহরগুলোতে যেতে হয়- সাথে থাকে ভারী যন্ত্রপাতি, কখনও কখনও নৌকাও! সুতরাং গাড়ি ছাড়া কোন উপায় নেই। ডিপার্টমেন্টের দুটি গাড়ি বলা যায় আমরাই (ল্যাবমেটরা) ব্যবহার করি সারা বছর! এছাড়া রয়েছে আরও তিনটি ব্যক্তিগত গাড়ি (সুপারভাইসরের, জার্মান ল্যাবমেটের এবং আমার) যেগুলোও আমরা সমানভাবে ব্যবহার করি ফিল্ডওয়ার্কে । বাংলাদেশী লাইসেন্স দিয়ে যুক্তরাজ্যে প্রথম বছর গাড়ি চালানো যায় কিন্তু এরপর বিরতিহীনভাবে চালাতে হলে ব্রিটিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স এর প্রয়োজন হয়। আমার বাংলাদেশী লাইসেন্স এর মেয়াদ শেষের দিকে হওয়ার কারনে ব্রিটিশ ড্রাইভিং লাইসেন্স এর বিষয়টি খুবই জরুরী হয়ে পড়েছিল।

যুক্তরাজ্যের ড্রাইভিং এর জন্য সবপ্রথম ধাপ লার্নার ড্রাইভিং লাইসেন্স করা। অনলাইনে আবেদন করার কিছুদিনের মধ্যেই ডাকযোগে চলে এলো সেটি। পরবর্তী ধাপ থিওরি টেস্ট, যেটি দুটি ধাপে বিভক্ত। প্রথম ধাপে ৫০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে যেখানে প্রতি প্রশ্নের জন্য ১ নম্বর বরাদ্দ। পাশ মার্কস ৪৩! দ্বিতীয় ধাপে আপনাকে ১৪টি ভিডিও ক্লিপ দেখানো হবে যেগুলোতে ১টি করে হ্যাজার্ড থাকবে এবং একটি ভিডিওতে ২টি হ্যাজার্ড থাকবে এবং পরিক্ষার্থীর কাজ হবে যে মুহূর্তে হ্যাজার্ড শুরু হচ্ছে সেই সময় মাউসে ক্লিক করতে হবে। আপনি কত দ্রুত হ্যাজার্ড এর প্রতি রেসপন্স করছেন তার উপর নির্ভর করে আপনার মার্কিং হবে। প্রতিটি হ্যাজার্ডের জন্য বরাদ্দ সর্বোচ্চ ৫ নম্বর (সর্বমোট ৭৫)। পাশমার্ক ৪৪।

বিলেতের দিনকাল: প্রথম ঈদ

বিগত কদিন থেকেই ফেসবুক বা গণমাধ্যমগুলোতে বাংলা একাডেমীর নতুন ঈদ (বাংলা একাডেমীর মতে ‘ইদ’) বানান নিয়ে বিভিন্নজনের তীব্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করছিলাম। বাংলা ব্যকরণ যাই হোক না কেন আমি বরাবরই তা একটু বেশীই কম বুঝি কিন্তু ঈদ যে আমার কাছে কখনই ‘ইদ’ হবে না সেটুকু আমি বুঝতে পারছি! এর মধ্যেই চলে এল রোজার ঈদ। আজ ২৫ জুন তারিখ, কাল বাংলাদেশে ঈদ- সে অনুযায়ী আমাদেরই ঈদ কাল। দুপুরের দিকে একটু দূরের দোকান থেকে কোক (কোকাকোলা) আনার জন্য আমরা যখন গাড়ি নিয়ে আমাদের বাড়ির গলিটি পার হচ্ছি তখনই লক্ষ্য করলাম পাঞ্জবী পরিহিত এক ইন্দোনেশীয়কে, চিন্তা করলাম ইন্দোনেশিয়াতে তো আজই ঈদ সুতরাং এরাও মনে হয় আজই ঈদ পালন করছে।

দুপুরে আমার বৌ তার লন্ডনে তার ফুপুকে ফোন দিতেই বাধল যত বিপত্তি! যুক্তরাজ্যে নাকি আজই ঈদ! তারা আজই ঈদের নামাজ পড়ে এসেছেন। কি আর করা... বাংলাদেশের বাইরে এই প্রথম ঈদ। যদিও পুরো মানসিক প্রস্তুতি ছিল যে এখানের ঈদ দেশের সাথে কোনভাবেই যায় না কিন্তু তাই বলে ঈদের দিন অর্ধেক বেশী পার হবার পর জানবো যে আজ ঈদ চলছে!

বিদেশে উচ্চশিক্ষা: পর্ব ১

বিগত কিছুদিনে বিভিন্ন ব্লগ এবং ফেসবুকে বিদেশে স্কলারশীপ বিষয়ক পরামর্শ, তর্ক-বিতর্ক ইত্যাদি ইত্যাদি দেখে এই ব্লগটি লেখার সিদ্ধান্ত নিলাম। কারন এসব ফেসবুক পোষ্ট বা ব্লগ পড়ে অনেকেই, বিশেষ করে যারা এই লাইনে নতুন, বিভ্রান্ত হতে পারেন- এই লেখাগুলো খুবই অসম্পূর্ণ এবং পক্ষপাতিত্ত্বমূলক। আশা করি এখান থেকে পাঠকরা বিদেশে উচ্চশিক্ষা বিষয়ে একটি স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ ধারনা লাভ করবে। এই লেখাটি মূলতঃ চলমান এবং প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে লেখা এবং উচ্চশিক্ষা বলতে এখানে মাস্টার্স এবং পিএইচডি বোঝান হয়েছে... আর একটি বিশেষ দ্রষ্টব্য এই যে এই লেখার প্রতিটি সেকশনেই তুলে ধরা বক্তব্যের কিছু ব্যতিক্রম থাকতে পারে যা লেখাটির সরলীকরন এবং সংক্ষিপ্তকরনের সুবিধার্থে এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হতে বিরত থাকা হয়েছে। সংক্ষিপ্তকরনের পরও এই লেখাটিকে দুটি ভাগে ভাগ করতে বাধ্য হলাম। এটি প্রথম পর্ব যাতে থাকছে বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কিছু বেসিক ধারণা। শেষপর্বে থাকবে আবেদন প্রক্রিয়া ও সংশ্লিষ্ট তথ্যসমূহ।

পাহাড় ঘেরা হ্রদের শহর রাঙ্গামাটি

পাহাড় পানির রাঙ্গামাটি...
শেষবার যখন রাঙ্গামাটি এসেছিলাম সেটি ছিল ২০০৫ সাল (২৭–২৮ সেপ্টেম্বর), ফিশারীজ বিভাগের ছাত্র হিসেবে শিক্ষাসফরে আর এবার যাচ্ছি ঠিক ১০ বছর পর ২০১৫ সালে (১১ অক্টোবর), ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে শিক্ষক হিসেবে!  আমাদের ট্যুর বাসটি যখন চট্টগ্রাম থেকে রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করল তখন সূর্য্য পশ্চিমে হেলে পড়েছে এবং সন্ধ্যা হতে আর অল্প কিছুক্ষণ বাকি। ফিশারীজ ৩য় বর্ষের ছাত্রছাত্রীদের প্রায় সবারই এই প্রথম রাঙ্গামাটি সফর যার করনে কারোরই উৎসাহের কোথাও কোন কমতি নেই। যদিও আমি আগেও একবার রাঙ্গামাটি এসেছি তারপরও আমারও অনুভূতি ওদের কারো থেকে কোন অংশে কম নয়! কতদিন পর! চট্টগ্রাম জেলার সীমানা পর করে রাঙ্গামাটি জেলায় ঢোকার আগেই চারপাশ অন্ধকার হয়ে গেল, ফলাফল স্বরূপ আশেপাশের দৃশ্য দেখার জন্য গাড়ির হেডলাইটের আলোর উপর নির্ভর করা ছাড়া উপায় নেই। দু’পাশের পাহাড়ি পরিবেশ, গাছপালা, সামনের উঁচু-নিচু রাস্তা সবকিছু আমাদের বাসের যাত্রীদের দীর্ঘ এবং প্রায় বিরতিহীন ট্যুরের ক্লান্তিকে সাময়িকভাবে হলেও ভুলিয়ে দিল, প্রায় সকলেই তখন নিজ নিজ সিটে না বসে দাঁড়িয়ে চারপাশ দেখার চেষ্টায় মত্ত। রাস্তার প্রতিটি উঁচু-নিচু ঢাল আসা মাত্রই বাসের মধ্যে তখন উচ্ছাসসূচক শব্দ শোনা যাচ্ছিল।

চিরস্বাধীন রাজ্যে (ত্রিপুরা) কয়েকদিন

উজ্জয়ন্ত প্যালেস, আগরতলা
এই সেই আগরতলা! অবশেষে স্বশরীরে এই শহরে! ৮ এপ্রিল ২০১৬ তারিখ দুপুরে আখাউড়া বর্ডার পার করে ভারতের ত্রিপুরার রাজ্যের রাজধানী আগরতলা শহরে প্রবেশের সাথে সাথে এই কথাটিই বার বার মনে হচ্ছিল! যে আগরতলার কথা ছোটবেলা থেকে এতবার শুনেছি (বিশেষ করে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার কারনে...) যে ভারতে ভ্রমনের কথা মনে হলে প্রথমেই উত্তর-পূর্ব ভারতের কথা মনে পড়ে যেত। অবশ্যই আমার প্রিয় লেখক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এর ‘প্রথম আলো’-এর একটি বিশাল ভূমিকা আছে ত্রিপুরা দেখার আগ্রহ তৈরীর পিছনে। কয়েকদিন আগেই ফেব্রুয়ারী মাসে দার্জেলিং এ একটি কনফারেন্সে যাবার সুযোগ ইচ্ছে করেই নষ্ট করলাম। তবে আখতার স্যার যখন জানতে চাইলেন ত্রিপুরা যাব কিনা তখন আর সুযোগ নষ্ট করলাম না। ভারতের অন্য অংশে যাবার সুযোগ মাঝে মধ্যেই পাওয়া যাবে কিন্তু উত্তর-পূর্ব অংশে যাবার এরকম সুযোগ হেলায় হারানোর কোন মানেই হয় না! আগের রাতে রাজশাহী হতে ধূমকেতু ট্রেনে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়ে ভোরে ঢাকায় পৌঁছে প্রায় ১ ঘন্টা পরে পারাবতে আখাউড়ার স্থলবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা। ইমিগ্রেশন পার করতে তেমন কোন ঝামেলা হল না, তবে দু’পাড়ে যেন আকাশ পাতাল তফাত। বাংলাদেশের অংশ খুবই জরাজীর্ণ হলেও ভারতের অংশ ঠিক বিপরীত! একই ধরনের বিপরীত মন্তব্য প্রযোজ্য কর্মকতাদের কর্তব্যের গতির ক্ষেত্রেও!

প্রাচ্যের স্কটল্যাণ্ড: শিলং

শিলং শহরের একাংশ
বলতে পারেন ভারতের কোন কোন স্থান ভ্রমণের জন্য বিখ্যাত? সবার আগে বেশীরভাগ লোক যার কথা বলবে সেটি হল দার্জেলিং। তবে অনেকেরই হয়ত ধারনা নেই যে আরও একটি স্থান ভারতে আছে যেটি হল শিলং, যার সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে ‘দার্জেলিং যদি রানী হয় তবে শিলং হল রাজা’! আসামের গৌহাটী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া একজন অনলাইন বন্ধু আমাকে আগেই জানিয়েছিল যে তুমি যদি প্রকৃতি পছন্দ কর তবে উত্তরপূর্ব ভারত এবং যদি ইতিহাস পছন্দ কর তবে দিল্লী ঘুরে যেও। আগে থেকেই আমার ভারতের এই অংশটির প্রতি দুর্বলতা ছিল তারপর আবার এই কথা শুনে সেটি আরও বেড়ে গিয়েছিল। ত্রিপুরাতে যখন আমন্ত্রণ পেলাম তখনই ঠিক করে ফেলেছিলাম যে এইবারই মেঘালয় এবং আসামও ঘুরে যাব। শ্রদ্ধেয় শিক্ষাগুরু আখতার স্যারের সুবাদেই এই ভ্রমণের সুযোগ, তাকে আমার পরিকল্পনা জানাতেই তিনি বললেন কোথায় কোথায় ঘুরতে হবে এটি তুমি ঠিক কর! এ যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি!

রোড টু ডারহাম, ০২: স্বপ্নের বাস্তবতা?

নিজ বিভাগ হতে সাময়িক বিদায়!
ফিশারীজে ভর্তি হবার পর থেকেই নাম শুনে এসেছি এআইটি (এশিয়ান ইস্টিটিউট অব টেকনোলজী, ব্যাংকক) এবং স্টারলিং (স্কটল্যাণ্ড, যুক্তরাজ্য) এর। শ্রদ্ধেয় আখতার স্যারের কল্যানেই ছাত্রজীবনে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম জেনেছিলাম এবং পরবর্তীতে নিজেরও সরাসরি দেখার অভিজ্ঞতা হয়েছে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এই দুটি প্রতিষ্ঠানের প্রভাব। সমগ্র ছাত্রজীবনেই স্বপ্ন ছিল এআইটিতে মাস্টার্স এবং স্টারলিং-এ পিএইচডি করার! আমার বরাবরই কেন যেন যেসব দেশের প্রথম ভাষা ইংরেজী না সে দেশগুলোর প্রতি তেমন একটা টান ছিল না! কারন সম্ভবত দুটি- (১) নতুন একটি ভাষা শিখতে হবে ভাল মত টিকে থাকার জন্য! আমার ক্ষেত্রে যে ব্যাপারটি প্রযোজ্য সেটি হলো ‘বাংলাই ভাল মত জানি না আবার নতুন একটি ভাষা! আমার দ্বারা হবে না!’ এবং (২) এসকল দেশে নাকি কাজের প্রচুর চাপ, সেই সকালে ল্যাবে ঢুকতে হয় এবং ল্যাব থেকে বেরতে রাত হয়ে যায়! সুতরাং আমার মত ফাঁকিবাজ কখনই এই পরিবেশে টিকতে পারবে না যেখানে নিয়মিত রুটিনের মধ্যে থাকতে হবে! কিন্তু আমার ক্ষেত্রে সমস্যার এখানেই তো শেষ নয়! বিদ্যুৎ বেগে মাত্র সাড়ে আট বছরের বেশী সময়ে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করার পর যখন কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হলাম তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে স্বপ্ন পূরণের! যদিও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞান বিভাগটিকে আমরা সেশনজটের আখড়া বলে জানি, তবে আমাদের বিভাগও কম যায় না দেখছি! যাহোক এখন যদি দেশের বাইরে মাস্টার্সের জন্য চেষ্টা করি তাহলে সব মিলিয়ে আরো ৩ বছর! সুতরাং আপাতত বাইরের চিন্তা বাদ দিয়ে শুরু হলো বেকারত্ব ঘুচানোর সংগ্রাম।

মেইড ইন বাংলাদেশ!

আমরা সবাই কমবেশী এই গল্প শুনেছি যে বিদেশে থেকে বাড়ি ফেরার সময় আত্মীয়-স্বজনদের জন্য অনেকেই অনেক দামী জামাকাপড় নিয়ে যান এবং পরবর্তীতে দেখা যায় এই জামাকাপড়ের সাথে ‘বাংলাদেশে তৈরী’ (মেইড ইন বাংলাদেশ) ট্যাগ লাগানো! গল্পটির মর্মার্থ হলো বাংলাদেশের (দেশের) জিনিস বিদেশ হতে অধিক দামে ক্রয় করে ঠকে যাওয়া! কিন্তু দেশের বাইরে আসার পর গত ক’মাস ধরে যা দেখছি তাতে এই ধারনা যে ভুল সেটি নিশ্চিত! অবশ্য অন্যান্য দেশের কথা বলতে পারবো না তবে যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে কথাটি অবশ্যই ভুল।

রোড টু ডারহাম, ০১: অপ্রত্যাশিত সুযোগ!

শ্রদ্ধেয় ইয়ামিন স্যারের সাথে বিভাগের বারান্দায় দেখা, আমি সবেমাত্র একটি ক্লাস শেষ করে চেম্বারের দিকে ধাবিত হচ্ছিলাম; দেখা হতেই স্যারের প্রশ্ন “কমনওয়েলথ স্কলারশীপের সার্কুলার হয়েছে... আবেদন করেছো?” আমার যথারীতি উত্তর “স্যার... কমনওয়েলথ?... ওটা তো হবে না... আবেদন করে কি লাভ?” স্যার সাহস দিলেন “আবেদন করো... তোমার হয়ে যাবে”। সেদিন বৃহস্পতিবার এবং ওয়ার্কিং আওয়ারও প্রায় শেষের দিকে অথচ আবেদনের শেষ তারিখ শনিবার! মধ্যখানে শুধু শুক্রবার কিন্তু আমি কিছুই জানি না আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে!
এতদিন ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও কোথাও স্কলারশীপের আবেদনই করতে পারি নি! কারন এডহক-এ ছিলাম, শিক্ষাছুটি পেতাম না। কিছুদিন আগেই চাকুরী স্থায়ী হয়েছে এখন আবেদন করতে কোন বাধা নেই। তাই বলে কমনওয়েলথ!!! ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যাণ্ড এ প্রফেসর ম্যানেজ করে ফেলেছি, এবছর আবেদন করবো। অবশেষে ঠিক করলাম অস্ট্রেলিয়া বা নিউজিল্যাণ্ডের সাথে যুক্তরাজ্য যোগ হলে সমস্যা কি? একটি অপশন বাড়বে! সুতরাং চেষ্টা করতে তো দোষ নেই...

রোড টু ডারহাম, ০৩: অবশেষে ডারহাম!

বিদেশে আসার পূর্বে মাথায় যে কত কিছু ঘুরপাক খাচ্ছিলো তার হিসেব নেই। এয়ারপোর্টে যেয়ে কি কি করতে হবে, ট্রেনে কিভাবে একা এতগুলো (এবং বড়) ব্যাগ-বোচকা নিয়ে উঠব, লোকজন কেমন হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে সবচেয়ে বড় দুঃচিন্তা ছিল কোথায় থাকবো! কারন যখন আমি প্লেনে উঠি তখনও আমার থাকার জায়গা ঠিক হয়নি! এর আগে বিদেশে বলতে শুধু ভারতে (অনেকের মতে এটি তো বিদেশ না কারন আমাদের দেশের সাথে এর তেমন কোন পার্থক্যই নেই) গিয়েছি, তাও আবার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক এবং অন্যতম শিক্ষাগুরু আখতার স্যারের সাথে, সুতরাং আমাকে কোন চিন্তাই করতে হয়নি। এবার পরিস্থিতি পুরো বিপরীত। কমনওয়েলথকে অনুরোধ করেছিলাম যে আমাকে ম্যানচেস্টারের বিমানের টিকিট না দিয়ে লন্ডনের টিকিট দিতে তাতে তাদেরও খরচ কম হত আর আমিও বিমানবন্দরে নেমে আমার আত্মীয়-স্বজন কারো দেখা পেতাম! সেটি নাকি তাদের পলিসি সমর্থন করে না! অতঃপর অনুরোধ করলাম বিমানের টিকিট নিউক্যাসল-এ দেবার জন্য কারন আমার গন্তব্য ডারহাম এর খুবই কাছের শহর এটি। ভাগ্য এবারও সহায় হলো না- তারা আমাকে প্রথম দিনই ট্রেনযাত্রা করিয়েই ছাড়বে!

দোয়েলের ডিম

ঘটনা কিছুদিন পূর্বের। আমাদের বাসার তৃতীয় তলার অসম্পূর্ণ কাজের জন্য মিস্ত্রী লাগানো হয়েছে, তারা সেখানে একটি পাখির বাসা আবিস্কার করেছে যেখানে ৪টি ডিমও আছে। একটি রুমের কোনায় কিছু বাঁশ একসাথে দাঁড় করানো ছিলো, পাখির বাসাটি এই বাঁশগুলোর উপরেই তৈরী। বিছানা থেকে উঠে বলতে গেলে চোখ ডলতে ডলতেই সেখানে হাজির হলাম। ডিমগুলো দেখেই চেনা চেনা লাগলো, আগেও আমি এই ধরনের ডিম দেখেছি, কিন্তু ঠিক মনে করতে পারছিলাম না। অন্যরা কেউই বলতে পারছিলো না কি পাখির ডিম। হঠাৎই মনে হয়ে গেলো আমার বারান্দার একজন নিয়মিত অতিথির কথা, একটি দোয়েল পাখি! যে নিয়মিতই আমার ঘুম ভাঙ্গায়। প্রতিদিন সকালেই পাখিটি আমার জানালায় এসে ঠক ঠক করে কি যেন করে, একদিন এমন শব্দ শুনে জানালার পর্দা সরিয়ে দিতেই থাই কাচের ওপাশে একটি দোয়েলের দেখা মিললো। পাখিটি জানালার কাচের সাথে লেগে থাকা পোকামাকড় জাতীয় কিছু খাওয়ার জন্য উড়ে আসছে এবং জানালার কাচের সাথে তার ঠোটের সংস্পর্শের কারনে ঠক ঠক করে শব্দ হচ্ছে। সাথে সাথে মনে হলো এই ডিমগুলি ঐ দোয়েলেরই এবং সেই সাথে মনে পড়ে গেল যে আমি ডিমগুলো আগে কোথায় দেখেছি।

শীতবস্ত্র কাব্য ০১

গতরাতেও বিছানায় যেতে প্রায় ৩টা বেজে গিয়েছিলো, শঙ্কায় ছিলাম যে সকালে সময়মত ঘুম থেকে উঠতে পারবো কিনা। তিনটি এ্যালার্ম দিয়ে ঘুমিয়েছিলাম। কিন্তু ৬টার দিকেই ঘুম ভেঙ্গে গেলো! আজ আমাদের রোটারী ক্লাব অব পদ্মা রাজশাহীর এবারের শীতের প্রথম শীতবস্ত্র বিতরণ ও মেডিকেল ক্যাম্প করার নির্ধারিত দিন। গত শনিবারেও আর একটি ভেন্যুতে করার কথা থাকলেও অবরোধের কারনে আমরা স্পটে পৌঁছেও তা বাতিল করে দিতে বাধ্য হয়েছি। পরবর্তীতে আবার ঐ স্থানে যাওয়া হবে। গত দু-একদিন রাজশাহীতে আবহাওয়া এমনই প্রতিকূল ছিলো যে আমরা সবাই বেশ আশঙ্কায় ছিলাম যে আজ সকালেও কুয়াশা যদি একইরকম থাকে তবে আমাদের কর্মসূচীতে নিশ্চিত বিলম্ব ঘটবে কয়েক ঘন্টা। যাহোক কুয়াশা আজও ছিলো কিন্তু সেটি রাস্তায় গাড়ি চালানোর জন্য তেমন সমস্যার মনে হলো না। আজ আমাদের গন্তব্য বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রত্যন্ত ৩টি সাঁওতাল আদিবাসী অধ্যুষিত গ্রাম যারা স্বভাবিক জীবনযাপনের মোটামুটি বেশীরভাগ সুযোগ-সুবিধা হতে বঞ্চিত।

এবারের কুরবানীর ঈদ (২০১৩)

বলতে বাধছে না যে ঈদ জিনিসটির মজা আমার কাছে অনেক কমে গেছে। ছোট বেলায় নানুবাড়িতে সেই মজায় ঈদ করতাম, আর এখন? এখন মজা মনে হয় ঈদের আগের দিনই বেশী। আগামীকাল ঈদ, কাল ঈদ একটা ভাব চলে আসে। গতবছর হতে একটি বিষয় লক্ষ্য করছি যে ঈদে পটকার ব্যাপকতা। আমি নিজেও পটকা বলতে পাগল! স্কুলে পড়া অবস্থায় ঈদের প্রাধান মজা ছিল পকেট ভর্তি করে পটকা নিয়ে বের হওয়া এবং সারাদিন সেগুলো ফুটানো। মাঝে বেশ কবছর পটকা ফুটানো একরকম বন্ধই ছিলো। ঈদে আমাদের সার্কেলের একটি নীতি ছিলো যেটি বর্তমানেও অনেকাংশে পালন করা হয়। ঈদে আমাদের আড্ডা হবে রাস্তায় রাস্তায়, এখানে সেখানে কিন্তু কারো বাড়ি যাবো না!